পিডিএফ বই: ইসলামের দৃষ্টিতে যুদ্ধ ও শাস্তি
প্রায় দশ বৎসরেরও বেশী সময় ইসলাম একেবারেই শক্তিহীন ছিল। আস্তে আস্তে এই বিশ্বস্ত লোকের সংখ্যা বেড়ে যায় কিন্তু নির্যাতন চলতেই থাকে এবং তারা নির্বাসিত হন। তখন এমন এক সময়
| ইসলামে মত প্রকাশের স্বাধীনতা | ডাঃ খলিফা আবদুল হাকিম |
|---|---|
| প্রকাশনীঃ | ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র |
| বইয়ের সাইজঃ | ১-এমবি |
| পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ | ২৩ |
| বিভাগঃ | ইসলামে অধিকার |
| কৃতজ্ঞতায়ঃ | বাগী কুঞ্জালয় পাঠাগার |
ইসলাম শান্তির ধর্ম তবুও একে আত্মরক্ষা ও প্রতিষ্ঠার জন্য যুদ্ধে প্রবৃত্ত হতে হয়েছিল। এর ফলে জোর জবরদস্তি দিয়ে প্রতিষ্ঠিত ও তলোয়ারের সাহায্যে প্রচারিত ধর্ম বলে ইসলামের নামে কুৎসা রটনা করা হয়েছে। যাঁরা কারলাইলের মত ভবিষ্যত দ্রষ্টার অন্তদৃষ্টি নিয়ে অথবা গিবন ও তার পরবর্তী অনেকের মত ধর্মীয় গোড়ামী ত্যাগ করে ইসলামের উত্থান সম্বন্ধে অনুসন্ধান করেছেন তারা সহজেই এই অভিযোগ খণ্ডন করতে পারেন।
ইসলামের প্রবর্তক হযরত মুহম্মদ (সাঃ) ছিলেন এমন একজন মহাপুরুষ যিনি সামাজিক, আর্থিক বা রাজনৈতিক কোন পার্থিব শক্তির অধিকারী ছিলেন না। তিনি যখন নিজেকে ও তাঁর মুষ্টিমেয় অনুসারীকে প্রাচীনকালের দলীয় বর্বরতা থেকে রক্ষা করার জন্য শক্তির বিরুদ্ধে শক্তি ব্যবহার করতে আরম্ভ করেন, তার আগে প্রায় দশ বৎসরেরও বেশী তিনি ও তাঁর অনুসারীরা সমস্ত রকম সম্ভাব্য উপায়ে নির্যাতিত হয়েছেন। তিনি ও তাঁর অনুসারীরা অনেক বড় বড় অসুবিধার মধ্যেও অসাধারণ ধৈর্য ও অধ্যাবসায় দেখিয়েছেন। তাঁরা সমস্ত পার্থিব বস্তু থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। নিজেদের জীবিকা নির্বাহ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তাদেরকে নির্বাসিত করা হয়েছে এবং তাদেরকে নিজেদের আবাসভূমি থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। ইতিহাসের আন্দোলনই ইসলামের চেয়ে বেশী ত্যাগ ও কোন শাহাদতের স্পৃহা দেখাতে পারে নি। এমন কি যখন তাঁরা মনে করেন যে প্রতিঘাত করার জন্যে তাঁরা যথেষ্ট শক্তিশালী, তার বহুকাল পর পর্যন্তও রসুলুল্লাহ, হযরত মুহম্মদ (সাঃ) তাদেরকে প্রতিঘাত করতে নিরস্ত করেছেন।
ইসলামের দৃষ্টিতে যুদ্ধ ও শাস্তি
হযরত মুহম্মদ (সাঃ) এমন এক সময়ের জন্য প্রতীক্ষা করছিলেন যখন তিনি ও তাঁর অনুসারীরা সবচেয়ে কম রক্তপাতের মধ্য দিয়ে তাদের কাজে জয়লাভ করবেন। তাঁরা শুধু নিজেদের ধর্মমত প্রতিষ্ঠা করা ছাড়াও সাধারণ ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট ছিলেন। এই ধর্মীয় স্বাধীনতায় প্রত্যেকেই নিজেদের বিশ্বাসমত কাজ করতে পারবে, কিন্তু একটা শান্তিময় সমাজ-ব্যবস্থার জন্য অবশ্য প্রয়োজনীয় আইন-কানুন ভঙ্গ করতে পারবে না। রসুলুল্লাহ, যদি তাঁর পেছনে বিরাট সৈন্য-বাহিনী নিয়ে তাঁর মতবাদ প্রচার করতে আরম্ভ করতেন এবং জনসাধারণকে ধর্ম পরিবর্তনের কিংবা তলোয়ারের আঘাতের প্রস্তাব করতেন, তাহলে অবশ্য এটা সঠিকভাবেই মন্তব্য করা যেত যে, এমন একটি ধর্মমত যা প্রয়োগের মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। ইসলাম ধর্মের মূলনীতি হচ্ছে 'ধর্মের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি করা উচিত না' আল-কুরআন, একথা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছে। অতএব ইসলাম কখনই জোর করে লোককে ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করতে পারে না।
সোজা প্রশ্ন করা যেতে পারে যে, কোথা থেকে এই তলোয়ার ব্যবহারকারী লোকগুলো এসেছিল? যদি তলোয়ারই লোককে ইসলাম গ্রহণ করতে বাধ্য করে থাকে, তাহলে ঐ তলোয়ার ব্যবহারকারী লোকগুলোকে কে ইসলামে দীক্ষিত করেছিল? রসুলুল্লাহর যখন সত্যতা ও দৃঢ়-বিশ্বাসের শক্তি ছাড়া অন্য কোন শক্তি ছিল না, তখন তার বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর শক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁর আধ্যাত্মিক শক্তির কাছে একে একে তার সমস্ত নির্যাতনকারীরা বশীভূত হয়ে পড়ে। ইসলাম গ্রহণের পর পূর্বের এই নির্যাতনকারীরা ও নূতন ধর্মান্তরিতরা অন্যদের দ্বারা নির্যাতিত হতে লাগল। তারা যে নৃশংসতা ভোগ করেছিলেন তার ভয়ানক দৃশ্য বর্ণনা করা অপ্রয়োজনীয় ।
প্রায় দশ বৎসরেরও বেশী সময় ইসলাম একেবারেই শক্তিহীন ছিল। আস্তে আস্তে এই বিশ্বস্ত লোকের সংখ্যা বেড়ে যায় কিন্তু নির্যাতন চলতেই থাকে এবং তারা নির্বাসিত হন। তখন এমন এক সময় এ এলো যখন তাদের লোককে ইসলাম গ্রহণ করতে বাধ্য করে থাকে, তাহলে ঐ তলোয়ার ব্যবহারকারী লোকগুলোকে কে ইসলামে দীক্ষিত করেছিল? রসুলুল্লাহর যখন সত্যতা ও দৃঢ়-বিশ্বাসের শক্তি ছাড়া অন্য কোন শক্তি ছিল না, তখন তার বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর শক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁর আধ্যাত্মিক শক্তির কাছে একে একে তার সমস্ত নির্যাতনকারীরা বশীভূত হয়ে পড়ে। ইসলাম গ্রহণের পর পূর্বের এই নির্যাতনকারীরা ও নূতন ধর্মান্তরিতরা অন্যদের দ্বারা নির্যাতিত হতে লাগল। তারা যে নৃশংসতা ভোগ করেছিলেন তার ভয়ানক দৃশ্য বর্ণনা করা অপ্রয়োজনীয়। প্রায় দশ বৎসরেরও বেশী সময় ইসলাম একেবারেই শক্তিহীন ছিল। আস্তে আস্তে এই বিশ্বস্ত লোকের সংখ্যা বেড়ে যায় কিন্তু নির্যাতন চলতেই থাকে এবং তারা নির্বাসিত হন। তখন এমন এক সময় এলো যখন তাদের সামনে তাঁদের ধর্মীয় স্বাধীনতার জন্যে যুদ্ধ করা অথবা ধ্বংস হয়ে যাওয়া কেবলমাত্র এ দুটো পথই খোলা ছিল। ইসলাম যদি নিজের অস্তিত্ব বজায় রাখার জন্য যুদ্ধ করেই থাকে, তাহলে কি কেউ তাকে দোষী করতে পারেন?