pdf book ইসলামে অমুসলিমদের অধিকার
ইসলাম সকলের জন্যই ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে। ইসলামী রাষ্ট্রে প্রতিটি নাগরিক; স্ত্রী বা পুরুষ, মুসলিম অথবা অমুসলিম যেই হোক, স্বাধীনভাবে নিজ ধর্ম পালন করতে পারে।
| ইসলামে অমুসলিমদের অধিকার | মুহাম্মাদ শরীফ চৌধুরী |
|---|---|
| প্রকাশনীঃ | বাংলাদেশ ইসলামিক ল |
| বইয়ের সাইজঃ | ১-এমবি |
| পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ | ৮৪ |
| বিভাগঃ | ইসলামে অধিকার |
| কৃতজ্ঞতায়ঃ | বাগী কুঞ্জালয় পাঠাগার |
ইসলাম প্রদত্ত অমুসলিমদের অধিকার
যদি আল্লাহ তা'আলা'র প্রতি ঈমানদার কেউ অথবা পুঁজিবাদী কেউ কমিউনিস্ট দেশে বহিরাগত হিসেবে গণ্য হয়, একজন কালো চামড়ার লোক শ্বেতাঙ্গদের দেশে (যেখানে বর্ণের ভিত্তিতে সামাজিক পৃথকীকরণ রয়েছে) অথবা ইতালিতে একজন অ-ইতালিয়ান গণ্য হয় বহিরাগত বলে, তাহলে বিস্মিত হবার কিছুই নেই। তেমনি ইসলামের দেশেও একজন অমুসলিমকে বহিরাগতরূপে গণ্য করা হয়। তবে ধারণা বা দৃষ্টিকোণ ভিন্ন ভিন্ন। প্রত্যেকেই স্বীয় গ্রুপের লোকদের এবং অন্যদের মধ্যে কোনো না কোনো পার্থক্য করে থাকে। অন্য সব রাজনৈতিক অথবা সামাজিক ব্যবস্থার ন্যায় ইসলামও আত্মীয় এবং অনাত্মীয়ের মধ্যে পার্থক্য করে থাকে।
এতে কোনো সন্দেহ নেই, একটি ইসলামী রাষ্ট্র তার নাগরিকদের মুসলিম ও অমুসলিম হিসেবে মূল্যায়ন করে থাকে। কিন্তু এটা কোনোভাবেই সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন অথবা তাদের অধিকার খর্ব করার জন্য নয়। এই মূল্যায়নের উদ্দেশ্য হচ্ছে, অমুসলিমদের ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় বিষয়ে স্বাধীনতা প্রদান এবং ইসলামী শরী'আহ্ কর্তৃক প্রদত্ত তাদের অধিকার ভোগ করার নিশ্চয়তা বিধান। ইসলামী রাষ্ট্র অমুসলিমদের রক্ষার দায়িত্বভার গ্রহণ করে (যাদের নিরাপত্তা-আশ্রিত ও সুরক্ষিত ব্যক্তি অথবা 'যিম্মী' বলা হয়ে থাকে) এবং এই দায়িত্বভার বা চুক্তি একবার গৃহীত হলে আর ভঙ্গ করা যায় না।
অন্যদিকে, যিম্মীদের এই চুক্তি বা যিম্মা পরিত্যাগ করার অধিকার আছে যখনই তারা এটা করতে ইচ্ছা করে। একজন যিম্মী কোনো মুসলিমকে হত্যা করার মতো মারাত্মক অপরাধ করতে পারে, 'জিযিয়া' দিতে অস্বীকার করতে পারে, একজন মুসলিম মহিলার ওপর ভয়াবহ হামলা চালাতে পারে, কিন্তু যিম্মার যে অধিকার তাকে প্রদান করা হয়েছে, তা ইসলামী রাষ্ট্র প্রত্যাহার করতে পারে না, যদিও রাষ্ট্রের আইনানুসারে সে যে অপরাধ করেছে, তাকে তার শাস্তি ভোগ করতে হবে। কেবল ইসলামী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলেই এই রক্ষাকবচের সুবিধা থেকে সে বঞ্চিত হতে পারে। ইসলামে অমুসলিমদের অধিকার সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে পরবর্তী অধ্যায়সমূহে আলোচনা করা হবে। ইসলামে অমুসলিমদের অধিকার
অমুসলিমদের ধর্ম পালন ও উপাসনার অধিকার
ইসলাম সকলের জন্যই ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে। ইসলামী রাষ্ট্রে প্রতিটি নাগরিক; স্ত্রী বা পুরুষ, মুসলিম অথবা অমুসলিম যেই হোক, স্বাধীনভাবে নিজ ধর্ম পালন করতে পারে। এভাবে অমুসলিম সংখ্যালঘুরা ইসলামী রাষ্ট্রে সম্পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করতে পারে। কারণ, রাষ্ট্র তাদের ধর্মীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে না এবং যারা ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্ম পালন করে, রাষ্ট্র তাদের প্রতি পরিপূর্ণ সহিষ্ণুতা প্রদর্শন করে থাকে। ইসলামের আসমানী গ্রন্থ আল-কুরআন বলে,
لا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ )
ধর্মের ব্যাপারে কোনো জোরজবরদস্তি নেই ।
قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ - لا أَعْبُدُ مَا تَعْبُدُونَ - وَلا أَنتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ وَلَا أَنَا عَابِدٌ مَا عَبَدتُمْ - وَلَا أَنتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَلِيَ دِينِ )
বলো, হে কাফিরগণ। আমি তার ইবাদত করি না যার ইবাদত তোমরা করো এবং তোমরাও তাঁর ইবাদাতকারী নও যাঁর ইবাদাত আমি করি। আর আমি ইবাদতকারী নই তার, যার ইবাদত তোমরা করে আসছো এবং তোমরাও তাঁর ইবাদতকারী নও যাঁর ইবাদত আমি করি। তোমাদের দীন তোমাদের জন্য, আমার দীন আমার জন্য। উপরে উল্লেখিত আয়াতগুলো থেকে বুঝা যায়, ইসলামী রাষ্ট্রে ধর্মীয় ব্যাপারে কোনো জোরজবরদস্তি নেই। 'তোমাদের দীন তোমাদের কাছে এবং আমার দীন আমার কাছে।' আল-কুরআনের এই নীতির ভিত্তিতে প্রত্যেকেই নিজ ধর্মের ব্যাপারে স্বাধীন। রাসূলুল্লাহ স. এই নীতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন ইসলামে অমুসলিমদের অধিকার
অমুসলিমদের জন্য বিচার বিভাগীয় ও সামাজিক স্বাধীনতা
একটি ইসলামী রাষ্ট্রে আল-কুরআনের শিক্ষা অনুযায়ী অমুসলিমগণ তাদের নিজেদের বিবাদ মেটানোর ব্যাপারে বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতা ভোগ করে থাকে। ইহূদীদের নিজস্ব ঝগড়া-বিবাদ তাওরাতের (তাদের নিকট অবতীর্ণ কিতাব) বিধান অনুযায়ী মীমাংসা করার অনুমতি দেয়া হয়েছে আল-কুরআনে। এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ স.-কে বলা হয়েছে, "যখন তাদের তাওরাত গ্রন্থ রয়েছে, তখন বিচারের জন্য ইহুদীরা তোমার কাছে কেনো আসে? ঐ গ্রন্থে আল্লাহ (তাদের জন্য) বিচার ব্যবস্থা নির্ধারণ করে দিয়েছেন।"৭৪ অন্য এক আয়াতে ইসলামের ঐশী কিতাব তাদেরকে (ইহুদীদের) ঝগড়া-বিবাদ নিজেদের আইন অনুযায়ী আরো স্পষ্টভাবে ও সরাসরি পন্থায় মীমাংসার স্বাধীনতা দিয়েছে। আল-কুরআন বলেছে,
وَلْيَحْكُمْ أَهْلُ الإِنْجِيلِ بِمَا أَنْزَلَ اللهُ فِيهِ وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ )
ইনজীল গ্রন্থে আল্লাহ তা'আলা যা অবতীর্ণ করেছেন, তার অনুসারীরা যেন তদনুসারে বিচার-ফয়সালা করে। আল্লাহ তা'আলা যা অবতীর্ণ করেছেন, তদনুসারে যারা বিচার করে না, তারা ফাসিক।"
অবশ্য সংখ্যালঘুরা তাদের মতভেদ মিটানোর জন্য ইসলামী আইনেরও সাহায্য নিতে পারে। আল-কুরআন বলেছে,
فَإِنْ جَاءُوكَ فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ أَوْ أَعْرِضْ عَنْهُمْ وَإِنْ تُعْرِضْ عَنْهُمْ فَلَنْ يَضُرُّوكَ شَيْئًا وَإِنْ حَكَمْتَ فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ بِالْقِسْطِ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ )
তারা যদি (কখনো কোনো বিচার নিয়ে) তোমার নিকট আসে, তাহলে তুমি (চাইলে) তাদের বিচার নিষ্পত্তি করে দিবে কিংবা তাদের উপেক্ষা করো। যদি তুমি তাদের উপেক্ষা করো, তাহলে তারা তোমার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। তবে যদি তুমি তাদের বিচার-ফয়সালা করতে চাও, তাহলে অবশ্যই ন্যায়বিচার করবে। আল্লাহ্ ন্যায়পরায়ণদেরকে ভালোবাসেন।