ইসলামে মানবাধিকার কিছু ভ্রান্ত ধারণা পিডিএফ
ইসলাম একটি পরিপূর্ণ ও নিখুঁত আলোকবর্তিকা অর্থাৎ জীবনব্যবস্থা। সর্বশক্তিমান আল্লাহ তায়ালা মানুষের প্রতি দয়াপরবশ হয়ে তাদের মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামকে জীবন ব্যবস্থা হিসেবে নির্ধারণ
| ইসলামে মানবাধিকার কিছু ভ্রান্ত ধারণা | আবু সালমান দিয়াউদ্দীন ইবারলি |
|---|---|
| প্রকাশনীঃ | ইসলাম হাউস পাবলিকেশন্স |
| বইয়ের সাইজঃ | ৪-এমবি |
| পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ | ১৮০ |
| বিভাগঃ | ইসলামে অধিকার |
| কৃতজ্ঞতায়ঃ | বাগী কুঞ্জালয় পাঠাগার |
মানবজীবনের মৌলিক প্রয়োজনীয়তা ও ইসলাম
ইসলাম দয়ালু আল্লাহর পক্ষ থেকে পাঠানো সর্বশেষ ও সর্বোত্তম জীবনব্যবস্থা। ব্যক্তি অধিকার ও সামষ্টিক সামাজিক অধিকার সংরক্ষণের জন্য ইসলাম তার যাবতীয় মূলনীতি, আইনগত কাঠামো, নৈতিক মূল্যবোধ ও আদর্শ সমাজব্যবস্থাকে অত্যন্ত সুচারুরূপে সাজিয়েছে। জনস্বার্থকে বিপন্ন না করে ব্যক্তি স্বার্থকে অক্ষুণ্ণ রাখার মাধ্যমেই ইসলাম সামগ্রীক ভারসাম্যপূর্ণ অধিকার ব্যবস্থা কায়েম রাখতে চায়। সমাজের প্রতিটি সদস্য যখন শান্তি, স্বাধীনতা এবং মৌলিক মানবীয় চাহিদা পর্যাপ্তভাবে উপভোগ করতে পারে ও একই সাথে জনস্বার্থের সাথে সমন্বয় সাধন করতে পারে, তখন তাদের প্রত্যেকেই পূর্ণতা ও তৃপ্তির সাথে একটি সফল জীবন-যাপনের সুযোগ লাভ করে। এসব তৃপ্তির সংজ্ঞা দিতে গিয়ে রাসূল বলেন-
مَنْ أَصْبَحَ مِنْكُمْ آمِنًا فِي سِرْبِهِ مُعَافِي فِي جَسَدِهِ عِنْدَهُ قُوْتُ يَوْمِهِ فَكَأَنَّمَا حِيزَتُ لَهُ الدُّنْيَا
'তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি শঙ্কামুক্ত অবস্থায় সুস্থদেহ নিয়ে সকাল শুরু করবে তার সেদিনের খাদ্যের ব্যবস্থা হলো, সে যেন দুনিয়ার যাবতীয় সুখ- শান্তি লাভ করেছে বলে গণ্য হলো।' তিরমিযী: ২৩৪৬
আসমানী ধর্মের সুরক্ষা
ইসলাম একটি পরিপূর্ণ ও নিখুঁত আলোকবর্তিকা অর্থাৎ জীবনব্যবস্থা। সর্বশক্তিমান আল্লাহ তায়ালা মানুষের প্রতি দয়াপরবশ হয়ে তাদের মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামকে জীবন ব্যবস্থা হিসেবে নির্ধারণ করে দিয়েছেন। পূর্বে যত নবী-রাসূল পৃথিবীতে এসেছিলেন, তাঁরা প্রত্যেকেই তাঁদের উম্মতদের সামনে ইসলামের শ্বাশত রূপকেই তুলে ধরেছিলেন। নূহ, ইবরাহিম ইশি, মূসা আইসি এবং ঈসা পাইসি সহ সকল নবীগণের দাওয়াত একটাই ছিল। তা হলো একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করো, শিরক করো না, মূর্তিপূজা ছেড়ে দাও। আল্লাহ তায়ালা বললেন-
وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَّسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ
"আমি তোমার পূর্বে এমন কোনো রাসূল প্রেরণ করিনি তাঁর প্রতি এ ওহী ব্যতীত যে, 'আমি ব্যতীত অন্য কোনো ইলাহ্ নেই; সুতরাং তোমরা আমারই 'ইবাদাত করো।" সূরা ২১, আম্বিয়া: আয়াত-২৫
আল্লাহ তা'য়ালা প্রত্যেক নবী রাসূলগণকেই সে সময়ের প্রয়োজনীয় আইন-কানুন, নিয়ম-পদ্ধতিসহ পাঠিয়েছিলেন। মুহাম্মদ সর্বশেষ আল্লাহর রাসূল। মহাজ্ঞানী ও সর্বজ্ঞ আল্লাহ রাব্বুল আ'লামীনের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত পথ নির্দেশনা এবং আইন-কানুনের মাধ্যমে মানবতার সর্বাঙ্গীণ মুক্তির লক্ষ্যেই তিনি প্রেরিত হয়েছিলেন। ইসলামে মানবাধিকার
মনের সুরক্ষা
সব ধরনের অর্থবহ, দায়বদ্ধ কাজ ও জবাবদিহিতার মূল ভিত্তিই হলো বুদ্ধিমত্তা। এ জন্য ইসলাম মাদকদ্রব্য সেবনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। কারণ মাদকদ্রব্য বুদ্ধিবৃত্তিক ও মানবিকভাবে মানুষকে ধ্বংস করে ফেলে। প্রকারান্তরে মাদক সেবন মানুষকে অমানুষে পরিণত করে। মদ ও মাদকদ্রব্যের আরবী প্রতিশব্দ 'খামর' যা ব্রেইনকে আচ্ছাদিত করে। এ্যালকোহল ও ড্রাগ হচ্ছে জঘন্য অপরাধ সংঘটনের অন্যতম কারণ। মাদকদ্রব্য গ্রহণের সাধারণ শাস্তি হিসেবে ইসলাম বেত্রাঘাতের নির্দেশ প্রদান করেছে। যেন এর মাধ্যমে মাদকদ্রব্য গ্রহণকারী এবং অন্যান্য লোকজন সতর্কবার্তা পায়। মহান আল্লাহ রাব্বুল আ'লামীন পবিত্র কুরআনুল কারীমে বলেছেন-
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنْصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَنِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ إِنَّمَا يُرِيدُ الشَّيْطَنُ أَنْ يُوقِعَ بَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ فِي الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ وَيَصُدَّكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَ عَنِ الصَّلُوةِ ۚ فَهَلْ أَنْتُمْ مُنْتَهُونَ
হে মুমিনগণ! মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্য নির্ণায়ক তীর এগুলো অপবিত্র ও ঘৃণ্য বস্তু, শয়তানের কাজ। সুতরাং তোমরা তা বর্জন কর-যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। শয়তান তো মদ ও জুয়া দ্বারা তোমাদের মধ্যে শত্রুতা এবং বিদ্বেষ ঘটাতে চায় এবং তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণে ও সালাতে বাধা দিতে চায়। সুতরাং তোমরা কি বিরত
হবে না? সূরা ৫, মায়িদা: আয়াত-৯০-৯১